
আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ভারতে ৩ হাজার টন ইলিশ মাছ রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।আসন্ন দুর্গাপূজায় ভারতে ৩ হাজার টন ইলিশ রপ্তানির সিদ্ধান্ত
বাংলাদেশ সরকার আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে ৩ হাজার টন ইলিশ মাছ রপ্তানির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। প্রতিবছরের মতো এবারও পূজা উপলক্ষে এই বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা ইতোমধ্যে দুই দেশের বাণিজ্যিক মহলে সাড়া ফেলেছে। ইলিশের চাহিদা মূলত পশ্চিমবঙ্গের বাজারে সবচেয়ে বেশি, যেখানে দুর্গাপূজার সময় এ মাছের বিশেষ কদর রয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ভারতে ইলিশ রপ্তানি সংক্রান্ত সব প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। রপ্তানির শর্ত হিসেবে প্রতিটি ইলিশের ওজন ৮০০ গ্রাম বা তার বেশি হতে হবে। এর পাশাপাশি নির্ধারিত কোটা ৩ হাজার টন হলেও, রপ্তানি কার্যক্রম ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে, যাতে মাছের গুণগত মান ঠিক থাকে এবং বাংলাদেশের বাজারেও ইলিশের সরবরাহে কোনো প্রভাব না পড়ে।
প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত
এই সিদ্ধান্তকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্কের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশের ইলিশ ভারতের বাজারে ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন একটি পণ্য। বিশেষত দুর্গাপূজার মতো উৎসবে এ মাছকে কেন্দ্র করে উভয় দেশের মানুষের মধ্যে একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক সংযোগ তৈরি হয়।
মৎস্য খাতের জন্য ইতিবাচক প্রভাব
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান উপাদান ইলিশ রপ্তানি। তবে, দেশের চাহিদা পূরণে ইলিশের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। এ উদ্যোগের ফলে মৎস্য খাতও আরও সমৃদ্ধ হবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। এ ছাড়া ভারতে ইলিশের চাহিদা বাড়ায় বাংলাদেশের মৎস্যজীবীরাও এর উপকার ভোগ করবেন।
ভারতীয় বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপূজার সময় ইলিশের কদর বহু বছর ধরে ঐতিহ্যের অংশ হয়ে আছে। এই রপ্তানি পশ্চিমবঙ্গের বাজারে স্বস্তি আনবে বলে মনে করা হচ্ছে, যেখানে সাম্প্রতিক সময়ে ইলিশের দাম ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী ছিল। ভারতীয় ক্রেতারা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
রপ্তানির সময়সীমা
বাংলাদেশ থেকে এই ৩ হাজার টন ইলিশ রপ্তানি কার্যক্রম সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হয়ে দুর্গাপূজার আগেই সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।